আজ
|| ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই
প্রকাশের তারিখঃ ১৮ আগস্ট, ২০২৪
তিনজনের সংসার। এক দিন কাজে না গেলে ঘরে চুলা জ্বলে না, জোটে না মেয়ের পড়াশোনার খরচ। সংসারী মানুষটি ৪ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে ঘর থেকে কাজের জন্য বের হয়েছিলেন। কথা ছিল কাজ শেষে দুপুরে বাড়িতে ফিরবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিবারকে দেওয়া কথা তিনি রাখতে পারেননি। পরদিন বাড়িতে ফিরেছেন লাশ হয়ে।
গত ৪ আগস্ট মুন্সিগঞ্জ শহরের সুপারমার্কেট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিতে নিহত হন রিয়াজুল ফরাজী (৩৮) নামের ওই ব্যক্তি। তিনি মুন্সিগঞ্জ শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা, পেশায় শ্রমিক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে রিয়াজুল ফরাজীর স্ত্রী রুমা আক্তার বলেন, ওই দিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে প্রাণ হারান রিয়াজুল। তিনি বলেন, ‘খুব অল্প বয়সে আমাগো বিয়া হইছিল। আমি নিজে হার্টের রোগী। একটা মাইয়া ধারদেনা কইরা বিয়া দিছি। আরেক মেয়ে (খুকু আক্তার) দশম শ্রেণিতে পড়ে। আমার ওষুধের খরচ, মেয়ের পড়ার খরচ, সংসারের খরচ চালাইতে যখন যে কাজ পাইত, তা–ই করত (রিয়াজুল)। কখনো অলস বইসা থাকত না।’
একটু থেমে আক্ষেপের সুরে রুমা আবার বলতে শুরু করেন, ‘সেদিন (৪ আগস্ট) বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় (রিয়াজুল) বলেছিল, ‘‘চিন্তা করিস না, আমাগো কষ্ট বেশি দিন থাকব না। আমি কাজে গিয়া টাকা জমামু। তর ওপারেশন করামু। তুই সুস্থ হইয়া যাবি। মাইয়ারে মেট্রিক পাস করাইয়া ভালা পোলা দেইখা বিয়া দিমু...।’’’ কথাগুলো পুরোপুরি শেষ করতে পারলেন না রুমা। বারবার কান্না চেপে বসছিল গলায়। একপর্যায়ে সশব্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
-সংগৃহীত
Copyright © 2026 Munshi Ganjer Khobor. All rights reserved.