আজ
|| ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
ইউনিয়ন সভাপতি ঘিরে বিএনপির দু’পক্ষে উত্তেজনা
প্রকাশের তারিখঃ ১৩ নভেম্বর, ২০২৪
সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ঘিরে মুন্সীগঞ্জ সদরের বাংলাবাজার ইউনিয়নে বিএনপির দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।
এক পক্ষ দাবি করছে, একক কর্তৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছেন মোয়াজ্জেম বাবু। নিজের বাহিনীকে শক্তিশালী করতে বিএনপি নেতাকর্মীকে নির্যাতন করা এবং আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, সম্প্রতি নৌ-ডাকাত বাবলা হত্যা মামলায় মোয়াজ্জেম বাবুকে আসামি করেছে অন্য পক্ষ। এই মামলা তুলে নিতে বাবুর অনুসারীরা বিপক্ষ গ্রুপকে হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়ে এরই মধ্যে বাবু নিজস্ব একটি বাহিনী গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে ওই বাহিনী মেঘনা, পদ্মা নদীসহ আশপাশ এলাকায় নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। সম্প্রতি ওই বাহিনীর সদস্যরা সদরের সিপাহিপাড়া এলাকার হাজি দেলোয়ার নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে তাঁর
কাছে থাকা সাড়ে ১২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনার পর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সহযোগিতায় ১১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন বেপারী, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম কামরুজ্জামান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন সাগর। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোয়াজ্জেম বাবু ও তাঁর বাবা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা সরকার। দলীয় বিরোধ চলমান থাকাবস্থায় গত ২২ অক্টোবর সংঘর্ষে নৌ-ডাকাত উজ্জ্বল খালাসী ওরফে বাবলা নিহত হওয়ার মামলায় তাঁর পরিবার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম বাবুকে আসামি করে। এর পেছনে বিএনপির অন্য পক্ষের ইন্ধন আছে দাবি করে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়েছেন মোয়াজ্জেম বাবুর বাবা গোলাম মর্তুজা।
সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন বেপারী বলেন, মোয়াজ্জেম বাবুর বাংলাবাজার ইউনিয়নে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে নিজের অনুসারী নেতাদের নিয়ে চক্রান্ত করছেন। এর ফলে ইউনিয়ন বিএনপি বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে উজ্জ্বল খালাসী ওরফে বাবলা হত্যা মামলায় বাবুকে আসামি করেছে নিহতের পরিবার। অথচ এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে গোলাম মর্তুজা মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে বাংলাবাজার ইউনিয়নের পরিস্থিতি অশান্ত করে তুলতে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন তিনি।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম কামরুজ্জামান বলেন, এলাকায় একক কর্তৃত্ব তৈরি করতে মোয়াজ্জেম বাবু স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে বাহিনী গড়ে তুলেছেন। ওই বাহিনীতে বিগত সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীকে নির্যাতন করা আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা রয়েছে।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাবাজার ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মোয়াজ্জেম বাবু বলেন, দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে। এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আশ্রয় দিয়ে নিজস্ব বাহিনী তৈরির অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
অন্যদিকে, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা সরকার বলেন, বাহাউদ্দিন বেপারীসহ বিএনপি নেতাদের মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। নৌ-ডাকাত বাবলা হত্যা মামলায় আমার ছেলে বাবুকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও সঠিক নয়।
সার্বিক বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বলেন, বাংলাবাজার ইউনিয়নে আধিপত্য নিয়ে দলে বিভক্তির বিষয়ে আমরা অবগত। এ বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর মোয়াজ্জেম বাবুর নাম ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও আমরা জানতে পেরেছি।
Copyright © 2026 Munshi Ganjer Khobor. All rights reserved.