আজ
|| ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
গজারিয়ায় মানববন্ধনে আগতদের উপর ডাকাত দলের নারী সদস্যদের হামলা; উত্তেজনা
প্রকাশের তারিখঃ ২৪ আগস্ট, ২০২৫
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে সদ্য স্থাপিত অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের পাশে নৌ ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা।
এদিকে মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে মানববন্ধনকারীদের উপর হামলা চালায় নৌ ডাকাত নয়ন-পিয়াস গ্রুপের নারী সদস্যরা। এ ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। মানববন্ধনকারী ও গণমাধ্যম কর্মীদের প্রায় এক ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে তারা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
খবর নিয়ে জানা যায়, আজ শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকাল সাড়ে চারটায় গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় নৌ ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করে স্থানীয়রা। মানববন্ধনে শেষে হোগলাকান্দি গ্রামে ফেরার পথে ট্রলার ঘাটে নৌ ডাকাত নয়ন-পিয়াস গ্রুপের দেড় শতাধিক নারী সদস্য কয়েকটি ট্রলারে এসে মানববন্ধনকারীদের উপর হামলা করে। এ সময় মানববন্ধনে আগত কয়েকজন নারী সামান্য আহত হয়। প্রায় এক ঘন্টা মানববন্ধনকারী ও গণমাধ্যম কর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখে হামলাকারীরা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী মানসুরা বেগম বলেন, ‘ আপনারাই দেখলেন আজকে কি ঘটলো। আমার ছেলে হৃদয় বাঘের হত্যাকারী নৌ ডাকাত নয়ন-পিয়াস ও লালু গ্রুপের নারী সদস্যরা সম্মিলিতভাবে আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করা বেশ কয়েকজন নারী আহত হয়েছেন। পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন হওয়ায় নৌ ডাকাত নয়ন, পিয়াস,লালু আত্মগোপনে থাকলেও তাদের তৎপরতা থেমে নেই। এখন বাধ্য হয়ে তারা তাদের দলের নারীর সদস্যদের মাঠে নামিয়ে দিয়েছে’।
হামলায় আহত রুমা বেগম বলেন, ‘ শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আমরা বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে ৮/১০টি ট্রলারে নৌ ডাকাত নয়ন-পিয়াস ও লালু গ্রুপের নারী সদস্যরা চলে আসে। তাদের নেতৃত্বে ছিল নৌ ডাকাত নয়নের বউ ও বোন। তাদের হাত থেকে বাঁচতে আমরা পুলিশ ক্যাম্পে এসে অবস্থান নেই। এখাকার অবস্থা ভয়াবহ, এখানে পুলিশও নিরাপদ নয়।
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, ‘ হঠাৎ করে নৌ ডাকাত গ্রুপের নারী সদস্যরা ট্রলার ঘাটে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করে। তবে আমরাও যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত ছিলাম। এই ঘটনায় সাময়িকভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। আমরা অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে ফোর্সের সংখ্যা আরো বাড়াচ্ছি’।
প্রসঙ্গতঃ গজারিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে সক্রিয় কয়েকটি নৌ ডাকাত দল। অবৈধ বালুমহাল পরিচালনা, নৌযানে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন কারণে গত কয়েক মাসে নৌ ডাকাত নয়ন-পিয়াস ও লালু বাহিনীর হাতে খুন হয় ডাকাত সর্দার বাবলা,স্যুটার মান্নান ও হৃদয় বাঘ। এদিকে ওই এলাকায় নৌ ডাকাতদের অপতৎপরতা কমাতে গত ২২ আগস্ট ইউনিয়নটির জামালপুর গ্রামে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হয়। তবে প্রথম থেকেই অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের বিরোধিতা করে আসছিল নৌ ডাকাত গ্রুপগুলো। পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরে নয়ন-পিয়াস,লালুসহ কয়েকজন আত্মগোপনে থাকলেও তাদের নারী সদস্যরা এখনো সক্রিয় রয়েছে।
ঢাকা প্রতিদিন
Copyright © 2026 Munshi Ganjer Khobor. All rights reserved.