মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পুলিশ ক্যাম্পে সশস্ত্র ডাকাতদের হামলার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়ন-পিয়াস-রিপন বাহিনীর প্রধান শীর্ষ নৌ ডাকাত রিপন সরকার (৪১)সহ তিনজনকে র্যাব-১১ গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা ঢাকা ও গাজীপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়।র্যাব সূত্রে জানা গেছে, রিপনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ ও চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে মোট ২৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি হত্যা, ৫টি ডাকাতি এবং ২টি অস্ত্র আইন মামলা অন্তর্ভুক্ত। রিপন গজারিয়ার জামালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল বাতেন সরকারের ছেলে। অন্য দুই অভিযুক্ত হলেন—গুয়াগাছিয়া গ্রামের মো. হারুন ওরফে হারুন মেম্বার (৪৭) এবং জামালপুর গ্রামের জামিল উদ্দিন মাসুম (৪০)।
র্যাব জানায়, বুধবার (২৭ আগস্ট) রাত ১টায় ঢাকার মতিঝিল থানার গাংচিল হোটেলে অভিযান চালিয়ে হারুন মেম্বারকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাত ৩টায় যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকা থেকে জামিল উদ্দিন মাসুমকে আটক করা হয়। পরদিন সকাল ৭টায় গাজীপুর সদর থানার তেলিপাড়া এলাকা থেকে রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বলা হয়, গত সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে গজারিয়ার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুরে নয়ন-পিয়াস-রিপন বাহিনী পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালায়। ৩০-৪০ জন ডাকাত হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় আধা ঘণ্টা চলা গোলাগুলিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নয়ন, পিয়াস, রিপন ও লালু বাহিনী মেঘনা নদী ও শাখা নদীতে অবৈধ বালুমহাল পরিচালনা ও নৌযানে চাঁদাবাজি করে আসছিল। এর ফলে এলাকার মানুষ আতঙ্কে ছিল, অনেকেই গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল।
এ পরিস্থিতির পর গত ২২ আগস্ট জামালপুর গ্রামে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পর এলাকার মানুষ ধীরে ধীরে ফিরে আসতে শুরু করলে ডাকাতদের প্রতিদিনের ৫০-৬০ লাখ টাকার আয় বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালায়।
ঘটনার পর এসআই সৈয়দ আজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে র্যাব অভিযান চালিয়ে রিপনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।