মুন্সীগঞ্জ শহরের কাচারী ফলপট্টি এলাকায় জেলা পরিষদ মার্কেট সংলগ্ন
পৌরসভার নির্ধারিত ময়লা ফেলার স্থান দখল হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে
পড়েছেন এলাকার দোকানপাট, ফল ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। বহুদিন ধরে এখানে
ছোট ছোট দেয়ালঘেরা এই নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলতেন স্থানীয়রা। তবে
বর্তমানে ওই স্থানটি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দখলে নেওয়ায় আশপাশের
লোকজন বাধ্য হয়ে ফুটপাতের ড্রেনের ওপর এবং ওই স্থানের সামনে ময়লা
ফেলছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টিনের বেড়া দেওয়ায় নির্ধারিত স্থানে ময়লা যাচ্ছে
না। ফলে ড্রেনের ওপর ময়লা ফেলায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তদন্ত করে জানা
যায়, নির্ধারিত ময়লা ফেলার স্থানের ঠিক পিছন দিকে মাটির তৈরী
জিনিসপত্রের দোকান চালান জামাল উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি
জানান, মুন্সীগঞ্জ শহর মসজিদ কমিটির কাছ থেকে মাসে ৪ হাজার টাকা
ভাড়া নিয়ে দোকানটি পরিচালনা করছেন। জামাল উদ্দিনের দাবি, “ময়লার
জায়গা ঠিক পিছনে থাকায় সেখানে বেচাকেনা হয় না। দুর্গন্ধে বসে
থাকা যায় না। এ কারণে আমার অনুরোধে মসজিদ কমিটি দোকানটি
পিছন থেকে সামনের দিকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য টিনের বেড়া দিয়ে রেখেছে।
কয়েকদিনের মধ্যে এটা ভেঙ্গে মাটির জিনিসপত্রের দোকান করা হবে।”
তবে দোকান স্থানান্তরের ফলে যে পৌরসভার নির্ধারিত ময়লা ফেলার স্থান
পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে, সে বিষয়ে কেউই দায়িত্ব নিতে চান না। এতে
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজনের ব্যবসার সুবিধার জন্য পুরো
এলাকার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে পৌরসভার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে আশা করছেন এলাকাবাসী-শীঘ্রই নির্ধারিত
স্থানটি পুনরুদ্ধার করা হবে এবং কাচারী ফলপট্টি এলাকার পরিবেশ আবার
স্বাভাবিক হবে।
শফিকুল আলম নামের এক বাসিন্দা বলেন, “একজন ব্যবসায়ীর সুবিধার জন্য
পুরো এলাকার মানুষকে ভুগতে হচ্ছে-এটা বুঝতে পারি না। পৌরসভার
জায়গা দখল করে কেউ কীভাবে দোকান চালায়?”