আজ
|| ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
সিরাজদীখানে সূর্যমুখী চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা
প্রকাশের তারিখঃ ১ মার্চ, ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় সরকারি প্রণোদনা ও কৃষি অফিসের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমতে শুরু করেছে। লাভজনক এই ফসলের ক্ষেত্রেও দর্শনার্থীর উপদ্রব, ফুল ক্ষতি এবং পরিপক্ব ফুলে পাখির আক্রমণের কারণে চাষিরা হতাশা প্রকাশ করছেন। ফলে সম্ভাবনাময় এই তৈলবীজ চাষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের চোরমর্দন গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায় এক করুণ চিত্র। ফুটে থাকা সূর্যমুখীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে দর্শনার্থীরা জমে ওঠলেও, ক্ষেতের ফুল ছিঁড়ে নেওয়ার কারণে চাষিরা মাঝখানে ঢুকে গাছ মাড়ানো এবং যুদ্ধ। চোরমর্দন গ্রামের কৃষক মো.আবুল কালাম জানান, এ বছর ৭০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি মূলত ভোজ্যতেল উৎপাদনের জন্য। ফলন ভালো হলেও এখন চরম বিপাকে আছি। মানুষ গাড়ি নিয়ে আসে ছবি তুলতে, ক্ষেতের মাঝে ঢুকে গাছ মাড়িয়ে দেয়। কেউ শখে ফুল ছিঁড়ে নিয়ে যায়। ফুল গেলে তো তেল উৎপাদন হবে না, আমাদের সারা বছরের পরিশ্রম মাটি হয়ে যায়। এছাড়া পরিপক্ব ফুলে টিয়া পাখি ক্ষেতে হামলা চালাচ্ছে, লাঠি হাতে দিনভর পাহারা দিতে হচ্ছে। এত ঝামেলা সহ্য করে সামনের বছর আর সূর্যমুখী চাষ করার ইচ্ছে নেই।
দর্শনার্থী রিমা আক্তার বলেন,
সুন্দর ফুলের ছবি তুলতে এসেছি। কিন্তু বুঝতে পারছি, আমাদের আচরণ কৃষকদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছি। অন্য দর্শনার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ক্ষেতে প্রবেশ করে ছবি তোলা ভুল হয়েছে। আমাদের সতর্ক থাকা উচিত ছিল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, সূর্যমুখী একটি লাভজনক ফসল হলেও উপজেলায় তুলনামূলকভাবে কম কৃষক চাষ করছেন। চলতি মৌসুমে মাত্র ৩০ জন কৃষকের মাঝে সরকারি প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। যা মাত্র ৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। বিশাল উপজেলায় ৫ হেক্টর অত্যন্ত নগণ্য। আমরা কৃষকদের আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করছি, তবে দর্শনার্থীদের অসচেতনতা ও পাখির আক্রমণ তাদের নিরুৎসাহিত করছে। আমরা কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।
Copyright © 2026 Munshi Ganjer Khobor. All rights reserved.