আজ
|| ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
গজারিয়ায় নিখোঁজের ৪ দিন পর মেঘনায় মরদেহ, আটক ৪
প্রকাশের তারিখঃ ৩১ মে, ২০২৬
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর মেঘনা নদীর শাখা ফুলদী নদী থেকে হালিমা আক্তার (২০) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
নিহত হালিমা আক্তার গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী গ্রামের মো. মহসিন মিয়ার মেয়ে এবং ভবেরচর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের ইমন মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৬ মে) বড় বোনের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বাবার বাড়ি থেকে বের হন হালিমা। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। নিখোঁজের চার দিন পর শুক্রবার (২৯ মে) সকাল ৮টার দিকে টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রাম সংলগ্ন ফুলদী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে গজারিয়া নৌ-পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন।
নিহতের বাবা মহসিন মিয়া জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে হালিমার বিয়ে হলেও স্বামীর পরিবারের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় গত দুই মাস ধরে তিনি বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। বড় মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ হওয়ার পর তারা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ করেও হালিমার সন্ধান পাননি।
গজারিয়া নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরজিৎ কুমার ঘোষ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বড় বোন হোসনেরা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পিবিআই তদন্ত শুরু করেছে। শুক্রবার রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বড় ভাটেরচর এলাকা থেকে চারজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন; মো. আল-আমিন (৪৩), মো. রাসেল (৪০), মো. জামাল (৪০) এবং ভাড়াটিয়া মো. আবুল কালাম (৪৫)। তারা সবাই পেশায় পরিবহন শ্রমিক (অটো, সিএনজি ও ট্রলি চালক)।
আটককৃতদের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, পুলিশ মধ্যরাতে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধর্ষণ বা হত্যার কোনো আলামত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় আলামত সংগ্রহ কিছুটা জটিল হলেও পিবিআই সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত করছে।
গজারিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি বর্তমানে নৌ-পুলিশ এবং পিবিআই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
Copyright © 2026 Munshi Ganjer Khobor. All rights reserved.