জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সংবেদনশীল তথ্য বিক্রি করে প্রায় ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ এবং ঢাকার নির্বাচন অফিসে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. আলামিন।
ঘটনার বিস্তারিত জানাতে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সেখানে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার জানান, নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বুধবার রাতে আগারগাঁও নির্বাচন অফিস থেকে আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকা থেকে হাবীবুল্লাহকে আটক করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, হাবীবুল্লাহ ২০০৮ সালে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে কর্মরত ছিলেন এবং গত বছরের এপ্রিলে গজারিয়ায় বদলি হন। অপরদিকে, আলামিন ২০১৬ সাল থেকে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) হিসেবে হাবীবুল্লাহর সঙ্গে ঢাকায় কাজ করতেন। আলামিনের কাছে একটি গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল, যার মাধ্যমে সারাদেশের এনআইডি তথ্য যাচাই করা সম্ভব হতো। ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি সেই আইডি ও পাসওয়ার্ড হাবীবুল্লাহকে দেন, বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা নিতেন। হাবীবুল্লাহ ওই আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির এনআইডি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিটি ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করতেন।
সিআইডির তথ্যমতে, ওই আইডি ব্যবহার করে এক সপ্তাহে এক লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এবং এক মাসে তিন লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য দেখা হয়েছে। প্রতিটি তথ্য ৩০০ টাকা ধরে বিক্রি করা হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১১ কোটি টাকা। এই অর্থ দিয়ে হাবীবুল্লাহ ঢাকায় একটি ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনের এনআইডির মূল সার্ভারে প্রবেশ করে তারা তথ্য সংগ্রহ করতেন। এসব তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবহার করে বিক্রি করা হতো। পল্টন থানায় দায়ের করা একটি পুরোনো মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এ সময় সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাইমেনুল ইসলাম জানান, এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে নানাবিধ প্রতারণা সংঘটিত হচ্ছে। ভুক্তভোগীর মোবাইল নম্বর বন্ধ করে অসুস্থতার অজুহাতে স্বজনদের কাছ থেকে টাকা আদায়, কণ্ঠ নকল করে বিদেশে বিপদে পড়ার গল্প শুনিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণার মতো অপরাধে এসব তথ্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনটি পরিচালনা করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) জসীম উদ্দিন খান।