মুন্সীগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক শূন্যপদ সমস্যা তৈরি করেছে চরম সংকট। জেলার মোট ৬১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ২২৬টি বিদ্যালয়ে এখনো প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত ও অস্থায়ী শিক্ষকরা সামলাচ্ছেন, যা শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শিক্ষক সংকটের কারণে স্কুলগুলোতে নেতৃত্বের অভাব দেখা দিয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় পরিকল্পিত পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অভিভাবক-শিক্ষক যোগাযোগ দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদানের মান কমতে শুরু করেছে এবং অভিভাবকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, সদর উপজেলায় ১১৫টি স্কুলের মধ্যে ৫১টি, টঙ্গীবাড়িতে ৯২টি স্কুলের মধ্যে ২৯টি, সিরাজদিখানে ১২৮টি স্কুলের মধ্যে ৪০টি, লৌহজংয়ে ৭৬টি স্কুলের মধ্যে ৩১টি, শ্রীনগরে ১১২টি স্কুলের মধ্যে ৪০টি এবং গজারিয়ায় ৮৭টি স্কুলের মধ্যে ৩৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। জেলায় মোট ৩৮৪ জন প্রধান শিক্ষক কর্মরত, তবে ২২৬টি পদ শূন্য।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকই সবচেয়ে বড় নেতৃত্ব। তারা শিক্ষাদান ও প্রশাসনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। তাদের অনুপস্থিতিতে শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা অতিরিক্ত দায়িত্বে পড়তে বাধ্য হচ্ছেন, যা শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা আশা করছেন পদোন্নতি, সরাসরি নিয়োগ ও তদবিরের মাধ্যমে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ হবে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল ইসলাম জানান, শূন্যপদ পূরণের জন্য ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিছু পদ উচ্চ আদালতের মামলার কারণে নিয়োগে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত থেকে সমাধান আসার পর শূন্য পদ দ্রুত পূরণ হবে বলে আশা করা যায়।
শিক্ষাবিদরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু পদ পূরণই যথেষ্ট নয়; নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুততর করা এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি, নতুবা প্রাথমিক শিক্ষা শাখায় দীর্ঘমেয়াদি নেতৃস্থানীয় সংকট শিক্ষার ওপর স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।