মুন্সীগঞ্জ-এ নিখোঁজের ১৯ দিন পর অটোরিকশা চালক সাকিল খালাসী (২৯)-এর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তিন বন্ধুর পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে তাকে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলনআটক ব্যক্তিরা হলেন—রাজন শেখ (২৫), ইমরান সরকার (১৯), শরীফ সুলতান আফসু (২৫) ও মো. ইউসুফ গাজী (৬০)। তাদের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর চরমশুরা ও শহরের দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকায়।পুলিশ সুপার জানান, মূল পরিকল্পনাকারী ইউসুফ গাজী এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে জুয়ার আসরে হেরে যান। ঋণের চাপ সামাল দিতে তিনি দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরে ছিনতাই করা অটোরিকশাটি পাশের জেলা নারায়ণগঞ্জের একটি ভাঙারি দোকানে মাত্র ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। সেখান থেকে প্রত্যেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাগ নেয়। এছাড়া নিহত সাকিলের মোবাইল ফোন ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ জানুয়ারি বিকেলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সাকিলকে কৌশলে ডেকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মেঘনার পাড়ের রমজানবেগ এলাকার একটি নির্জন স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে তার গলায় মাফলার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ কাশবনের মধ্যে ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ রমজানবেগ এলাকার কাশবন থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করার পর জেলা ডিবি ও পুলিশ তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাকিলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে মূল হোতা ইউসুফ গাজীসহ তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত আরও একজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।