মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স সিন্ডিকেটে বিপাকে পরছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনেরা।শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ সয্যা বিশিষ্ট। এখানে বছরের বেশীরভাগ সময় ভর্তি রোগীর ভীর শয্যার চাইতেও বেশী হয়।মূলত নিম্ন মধ্যবিত্ত ও গরীব রোগীর ভীড় বেশী থাকে।এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আউটডোরে প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী সেবা নিতে আসেন।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভর্তি রোগী বেশী থাকায় রোগীরা ফ্লোরে ফোম বিছিয়ে সেবা নিচ্ছেন।
শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অপারেশনের পাশাপাশি সীজারিনান ও নরমাল ডেডিভারীও হয়ে থাকে।এক্ষেত্রে নার্সদের একটা পক্ষের রোগীদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।এই সিন্ডিকেটে সিনিয়র নার্স সহ জুনিয়র নার্সরা মিলে সেবা নিতে আসা রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অযুহাতে নগদ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।জানা যায় এ অবৈধ সুবিধা নেয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন একজন সিনিয়র নার্স।তার নেতৃত্বে আদায় কৃত অর্থ কমবেশি হারে ভাগবাটোয়ারা হয় সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাঝে।খবর নিয়ে জানা গেছে, গত ৫ আগষ্ট রাতে প্রসব বেদনা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন আছিয়া ( ছদ্মনাম) নামের এক রোগী।ভোরে তার নরমাল ডেলিভারিতে তিনি বাচ্চা প্রসব করেন।এ সময় দ্বায়িত্বরত নার্সরা হাসপাতালের কোয়ার্টারে বসবাস করা সিনিয়র নার্স কাজী শুসমা আক্তার কে সাহায্যের জন্য ডেকে আনেন।রোগীর নরমাল ডেলিভারির পর ঐ সময় দ্বায়িত্বরত নার্সরা রোগীর স্বজনের কাছে বকশিস বাবদ অর্থ আদায় করেন এবং কাজী শুসমা আক্তার কোয়ার্টার থেকে এসে কাজ করায় রোগীর কাছ থেকে এক হাজার টাকা আদায় করেন।এছারাও বর্তমান এই সিন্ডিকেটটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অযুহাতে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে থাকে বলে যানা যায়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জুনিয়র নার্স বলেন, এ ধরনের কাজ প্রায় বেশীর ভাগ সময়ই হয়ে থাকে।তিনি প্রায় ৬০ হাজার টাকা বেতন পান কিন্তু সিজার,নরমাল ডেলিভারির এবং কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে উনি বকশিস হিসেবে অর্থ আদায় করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগী জানান, আমরা গরীব মানুষ, সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসি টাকার অভাবে।কিন্তু এখানে বকশিসের নামে আমাদের কাছ থেকে তারা টাকা নেন যা আমাদের জন্য কষ্টদায়ক। এছাড়া আরও জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটটি বিভিন্ন সময়ে আগের সিস্টার ইনচার্জে থাকা ব্যাক্তির জন্য বাধাগ্রস্ত হতেন তাই তারা জোটবদ্ধ হয়ে নতুন কাউকে ইনচার্জ বানানোর প্রস্তাব দেন এবং ১ আগষ্ট থেকে আগের জনের জায়গায় নতুন একজন দ্বায়িত্ব গ্রহন করেন।
এ বিষয়ে সিনিয়র নার্স কাজী শুসমা আক্তারের কাছে টাকা নিয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোয়ার্টারের বাসায় ছিলাম।তখন হাসপাতালে দ্বায়িত্বরত নার্সরা আমাকে ডেকে নেন। তিনি কাজ শেষে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।তার কাছে কতো টাকা নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, রোগীর লোকেরা তাকে ১০০০ টাকা দিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে বর্তমান সিস্টার ইনচার্জ আমিনা খাতুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ১ আগষ্ট থেকে ইনচার্জের দ্বায়িত্ব গ্রহন করেছি।ইনচার্জ হিসেবে বিষয়টি জানেন কি-না জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন এবং কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। এ বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জসিম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বক্তব্য দিবোনা।আপনি (সাংবাদিককে) আসেন এক সাথে চা খেয়ে কথা বলবো।