• বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
Headline
পঞ্চসার বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ গজারিয়ায় নিখোঁজের ৪ দিন পর মেঘনায় মরদেহ, আটক ৪ সিরাজদিখানে সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় গ্রেফতার ৩ সরকারি গাছ কেটে ব্রীজ নির্মাণ, ইউপি সদস্যের পক্ষে এলাকাবাসীর সমর্থন! উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে জাতীয় শিক্ষা পদক পেলেন মো: জাহাঙ্গীর হোসেন  শ্রীনগরে চোরাইকৃত মালামালসহ হত্যা মামলার  আসামী গ্রেফতার  শ্রীনগরে র‌্যাবের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত  আসামী গ্রেফতার  মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদ ভবনের সম্মুখভাগ সংস্কার কাজের উদ্বোধন মুন্সীগঞ্জে ১৯ মে শুরু তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা সংবাদ সম্মেলন মুন্সীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৭ কেজি গাঁজাসহ তিনজন গ্রেফতার মুন্সীগঞ্জে শব্দদূষণবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত, ৬ যানবাহনকে জরিমানা বৃষ্টির মধ্যে গরু আনতে গিয়ে গজারিয়ায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু লঞ্চ থেকে কল পেয়ে অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসা দিতে হাজির কোস্টগার্ড শ্রীনগরে স্কুলছাত্র হত্যা মামলার আসামি আটক মুন্সীগঞ্জ আইনজীবি সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীপন্থীদের প্রার্থীতা বাতিল গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রি, মুন্সীগঞ্জে চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার খাসমহল বালুচর স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পুরস্কার বিতরন মুন্সীগঞ্জে আন্তঃজেলা বাইকচোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল জ্বালানি সংকটে থমকে গেছে দিঘীরপাড়ের জীবন: কর্মহীন ৫০০ মোটরসাইকেলচালক, দুর্ভোগে জনজীবন সাত বছর পর ফিরল লাক্স সুপারস্টার: মুকুট জিতলেন রাজশাহীর বিদুষী বর্ণিতা

মুন্সীগঞ্জজুড়ে ইনভয়েসবিহীন ও নিম্নমানের ওষুধের অবাধ বেচাকেনা

Reporter Name / ৮৪ Time View
Update : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫

মুন্সীগঞ্জ জুড়ে এখন ছড়িয়ে পড়েছে ড্রাগ রেজিস্ট্রেশন (ডিআর) নম্বরবিহীন ও বিক্রয়–নিষিদ্ধ ওষুধ। নাম–বেনামে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি অসাধু চিকিৎসক ও ফার্মেসি দোকানিরা এসব ওষুধ রোগীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। অনেকেই আবার ইনভয়েসবিহীন ভেজাল ও স্বল্পমানের ওষুধ বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা অর্জনে জড়িত। এসব ওষুধ সেবনে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ মানুষ কম শিক্ষিত হওয়ায় প্রথমেই তারা স্থানীয় ফার্মেসিতে যান। সেখানে অজস্র নিম্নমানের ও নিষিদ্ধ ওষুধ ধরিয়ে দেওয়ায় রোগ সারে না। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রোগীরা ওষুধের খালি পাতা দেখিয়ে অভিযোগ করেন যে অনেক টাকা খরচ করেও সুস্থ হতে পারেননি।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রতিটি ওষুধ কোম্পানি যদি ফার্মেসিকে ইনভয়েস সরবরাহ করে, তাহলে সহজেই বোঝা যাবে কোম্পানিটি ঔষধ প্রশাসনের তালিকাভুক্ত কিনা। এছাড়া নিবন্ধিত সব ওষুধের তালিকা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটেও দেওয়া আছে।

মুন্সীগঞ্জ শহর ও প্রত্যন্ত এলাকার ফার্মেসিগুলো ঘুরে দেখা যায়—প্রেসক্রিপশন ছাড়াই সরাসরি এসব ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। অনেক চিকিৎসকও ক্লিনিকে বসে রোগীদেরকে এই ডিআর নম্বরবিহীন ওষুধ প্রেসক্রাইব করছেন। রোগীর মুখে উপসর্গ শুনেই দোকানিরা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দিচ্ছেন।

ফার্মেসিগুলোতে ইনভয়েসবিহীন ওষুধের পাশাপাশি অনুমোদনবিহীন ফুড সাপ্লিমেন্ট, বিদেশি স্কিন–কেয়ার পণ্য, যৌন উত্তেজক ও নানা অজানা কোম্পানির ক্যাপসুল–ট্যাবলেট খোলামেলাভাবে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সুতিং জেল, রেভিকাল, বনবিয়ান, ওমেগা–৩, বায়োমেগা ক্যাপসুল, নোভাপ্লেক্স, রেটিনেক্স, জিসিএম প্লাসসহ আরও অনেক পণ্য।

অনেক ফার্মেসি মালিক স্বীকার করেন, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে এসব বিদেশি ও ডিআরবিহীন ওষুধের নাম থাকায় তারা বাধ্য হয়ে বিক্রি করেন। এছাড়া বেশি লাভের আশায় ইনভয়েসবিহীন পণ্য কিনে বিক্রি করছেন। মুন্সীগঞ্জ সদরে পাঁচ–ছয়জন বিক্রয় প্রতিনিধি এই অবৈধ সরবরাহে জড়িত। এদের মধ্যে মিজান, রাফি, ইলিয়াস বিদেশি নিষিদ্ধ ওষুধ সরবরাহ করেন; আর বসির, আলমগীর ও নাজির চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ইনভয়েসবিহীন ওষুধ এনে ফার্মেসিগুলোতে পৌঁছে দেন।

ফার্মেসি মালিক সেজে যোগাযোগ করলে এসব প্রতিনিধিরা স্বীকার করেন যে ফোনে অর্ডার পেলেই তারা নির্দিষ্ট দোকানে ওষুধ পৌঁছে দেবেন। তাদের কেউ কেউ বলেন, বিদেশি এসব পণ্যের আমদানির বৈধতা নেই, তাই সরকারিভাবেও তারা দায় নেন না।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সাইদ হোসেন জানান, অনেক রোগী নিম্নমানের ওষুধ সেবনের কারণে সুস্থ হতে না পেরে অভিযোগ নিয়ে আসেন। তাদের দেখানো ওষুধ থেকেই অনিয়ম ধরা পড়ে।

এদিকে জেলা ঔষধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক গোলাম মোস্তফা জানান, জেলায় প্রায় ১,৬০০ লাইসেন্সধারী ফার্মেসি রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ২৪টি ফার্মেসিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং অ্যান্টিবায়োটিকের অবাধ বিক্রি ও ফিজিশিয়ানস স্যাম্পল বিক্রির অভিযোগে আটটি মামলা হয়েছে। এছাড়া ভেজাল ও নকল ওষুধ শনাক্তে ১০০টি নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতি ফার্মাসিউটিক্যাল নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে, যা জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধ প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা