দিঘীরপাড় এলাকার নদীবেষ্টিত দুর্গম জনপদে যোগাযোগের প্রধান ভরসা ছিল ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা ও টংগিবাড়ী উপজেলা সংলগ্ন এই অঞ্চলে হঠাৎ জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ মোটরসাইকেলের চলাচল। ফলে প্রায় ৫০০-এর বেশি চালক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, আর স্থানীয় বাসিন্দারা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকায় সড়ক যোগাযোগের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় নদীপথ ও কাঁচা রাস্তার মধ্যে মোটরসাইকেলই ছিল দ্রুত যাতায়াতের একমাত্র কার্যকর মাধ্যম। কিন্তু পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ সংকটে এখন অধিকাংশ মোটরসাইকেল অচল হয়ে আছে।
এর প্রভাব পড়েছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। কৃষকরা সময়মতো তাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারছেন না। অনেকে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পথ হেঁটে মাথায় করে কৃষিপণ্য বহন করে বাজারে যাচ্ছেন। এতে সময় যেমন বেশি লাগছে, তেমনি বাড়ছে শ্রম ও খরচও 🌾🚶
স্থানীয় মোটরসাইকেলচালক রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন মোটরসাইকেল চালিয়ে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত আয় হতো, কিন্তু জ্বালানি না থাকায় এখন গাড়ি বের করতে পারছেন না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরেক চালক সোহেল মিয়া বলেন, মোটরসাইকেলই ছিল পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। হঠাৎ জ্বালানি সংকটে তারা কার্যত বেকার হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিমের ভাষ্য, আগে মোটরসাইকেলে ২০ থেকে ৩০ মিনিটে বাজারে পৌঁছানো গেলেও এখন একই পথ হেঁটে যেতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগছে।
গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, শিশু বা পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়া এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কোনো যানবাহন না পাওয়ায় অনেক সময় বিপদে পড়তে হচ্ছে।
কৃষক মজিবর রহমান জানান, সময়মতো বাজারে পণ্য নিতে না পারায় অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি চরাঞ্চলের জন্য টেকসই বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সংকট আরও তীব্র হবে