লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের দাশপাড়া সেতুটি ছিল চার গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের একমাত্র সড়কপথের ভরসা। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে সেতুর পশ্চিম পাশের গোড়ার মাটি সরে যেতে থাকে। প্রায় ১৫ দিন পর সেই অংশ ভেঙে সেতুটি একদিকে হেলে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়কের মাটি সরে যাওয়ার খবর সময়মতো উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।
দক্ষিণ কলমা গ্রামে অবস্থিত এই সেতুটি হেলে পড়ায় কলমা, দাশপাড়া, বিধুয়াইল ও পাঁচনখোলা গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কলমা-পাঠানবাড়ী খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ বাজার, স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতেন। এখন সেতুতে রিকশা, ভ্যান বা ইজিবাইকসহ কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দে সেতুর উত্তর পাশে একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে, যা দিয়ে কেবল হাঁটা চলাচল সম্ভব। তবে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সেতুটি হেলে পড়ার পরও অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেলিং ধরে পার হচ্ছেন।
২০০৬ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮০ ফুট দীর্ঘ ও ১০ ফুট প্রশস্ত এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়মতো মাটি সরে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় সেতুটি হেলে পড়ে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর আশপাশে নির্মাণকাজে নিযুক্ত শ্রমিকরা এখনো ঝুঁকি নিয়ে পণ্য বহন করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা বিলকিস বেগম বলেন, “বাজারে যেতে এখন প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়ে যেতে হয়।” বিধুয়াইল গ্রামের রতন শেখ বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আনা-নেওয়া কঠিন হয়ে গেছে।”
ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান হিরণ দোকানদার জানান, অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণের পাশাপাশি নতুন সেতুর জন্য আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম বলেন, “বর্তমান সেতুটি মেরামত সম্ভব নয়; নতুন সেতু নির্মাণ করতেই হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নেছার উদ্দিন জানান, হেলে পড়া সেতুটি অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বর্ষা শেষে পানি নেমে গেলে পুরোনো সেতুটি সরিয়ে সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।