মুন্সীগঞ্জে এ মৌসুমে প্রায় তিন কোটি টাকার শীতকালীন সবজির চারা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও টানা বৃষ্টিতে সেই লক্ষ্য এখন অনিশ্চয়তার মুখে। আগের দফায় বৃষ্টিতে লোকসান গুনতে হওয়া কৃষকরা নতুন করে চারা রোপণ করেছিলেন লাভের আশায়, কিন্তু সাম্প্রতিক বৃষ্টির পূর্বাভাসে তাদের সেই আশা এখন দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল থেকেই মুন্সীগঞ্জের আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের ঝলকানি ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে কৃষকরা তড়িঘড়ি করে বীজতলা বাঁশের ছাউনি ও চাটাই দিয়ে ঢেকে রাখেন।
মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় শতাধিক কৃষক ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, টমেটো, ব্রোকলি, কুমড়া, বেগুনসহ নানা সবজির চারা উৎপাদনে ব্যস্ত। এসব চারা স্থানীয় বাজার ছাড়াও কেরানীগঞ্জ, সাভার, মানিকগঞ্জ, সিলেট, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর ও বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
প্রতি মৌসুমে জেলায় প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি সবজি চারা উৎপাদিত হয়, যার বাজারমূল্য তিন থেকে চার কোটি টাকা। তবে এ বছর চারা উৎপাদনে ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ। কৃষকরা জানান, অধিকাংশ বীজ বিদেশ থেকে, বিশেষ করে জাপান থেকে আমদানি করা হয়। বর্তমানে এক কেজি কপি বীজের দাম পড়ছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত, আর সবচেয়ে কম দামের ফুলকপি বীজও ৫০ হাজার টাকা কেজি।
চাষিদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারণে বীজ, সার, শ্রমিক ও বাঁশের ছাউনি—সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কিছুটা লাভের আশা ছিল, কিন্তু নতুন করে বৃষ্টির আশঙ্কা তাদের উদ্বেগে ফেলেছে।
সদরের বানিক্যপাড়া এলাকার কৃষক আব্দুস ছালাম বলেন, “আগের বৃষ্টিতে চারা নষ্ট হয়েছে। এবার আবার চাষ করেছি ক্ষতি পুষিয়ে নিতে, কিন্তু যদি ঘূর্ণিঝড় হয়, তাহলে সব শেষ।” একই এলাকার পারভেজ ও বাবু নামের দুই কৃষক জানান, এবার বীজের দাম অনেক বেশি, তাছাড়া আগের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারলেই তারা খুশি হতেন।
অভিজ্ঞ চাষি সোবহান মিয়া বলেন, “২৫ বছর ধরে চারা চাষ করছি, আগে কখনও লোকসান হয়নি। কিন্তু এ বছর আবহাওয়ার কারণে লাভ হবে কি না বলা যাচ্ছে না।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর জেলায় ৪ হাজার ৯০৭ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদ হচ্ছে, উৎপাদনের লক্ষ্য ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন।
উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “বৃষ্টিতে যেন বীজতলার ক্ষতি না হয়, সে জন্য কৃষকদের পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। আশা করি তেমন ভারি বৃষ্টি হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা অভিজ্ঞ ও সচেতন। তাদের উৎপাদিত মানসম্মত চারা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, দেশের ২৫টি জেলায় সরবরাহ করা হয়।”






