মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মধুপুর মনিপাড়া গ্রামে শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে বাঁশ ও বেতের কুটিরশিল্প। গ্রামের প্রায় ৮০টি পরিবার এ পেশার সঙ্গে যুক্ত, যেখানে অন্তত সাড়ে চার শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করেন।
গ্রামজুড়ে এখন বাঁশ-বেতের শো-পিস, ঝুড়ি, বাস্কেট, আয়নার ফ্রেম, ঝাড়বাতি, মোড়া, ফুলের টবসহ নানা নকশার পণ্য তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শিল্পীরা। এখানকার পণ্য ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড ও ইস্কাটনের দোকানগুলোতে বিক্রি হয়, যেখান থেকে এগুলো রপ্তানি হচ্ছে জাপান, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে।
মেসার্স মধুপুর কুটিরশিল্পের মালিক সুভাষ দাস জানান, দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো তাদের কাছ থেকে নিয়মিত পণ্য ক্রয় করে। বর্তমানে তার কারখানায় ৬০ জনেরও বেশি শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের মাসিক বেতন ন্যূনতম ১২ হাজার টাকা। তিনি বলেন, “বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার প্রচুর, কিন্তু পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় সব চাহিদা পূরণ করা যায় না। সরকার যদি সহজ শর্তে ঋণ দেয়, তাহলে এই শিল্প আরও বিকশিত হবে।”
দীর্ঘদিন ধরে এই কাজে যুক্ত পুষ্প রানী দাস বলেন, “আমি প্রায় ৫০ বছর ধরে বেতের কাজ করছি। এখন আমার ছেলে-মেয়ে ও ছেলের বউও এই পেশায় জড়িত। সংসারের কাজের পাশাপাশি আমরা সবাই মিলে পণ্য তৈরি করি।”
বিসিক মুন্সীগঞ্জ কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, “আমরা উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করে থাকি। গ্রুপভিত্তিক আবেদন করলে তারা সহজে বড় অঙ্কের ঋণ পেতে পারেন।”