মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাসের ভেতর আগুনে পুড়ে জীবন হারায় শাহাবীর মিয়া। মৃত্যুর পরও তার পরিবার আজও পুরো ক্ষতিপূরণ পায়নি। শিশু বয়সেই বাবার সোহেল মিয়ার পরিত্যাগ, পরে নানার বাড়িতে কষ্টের সংসার—সব মিলিয়ে কঠিন জীবনযুদ্ধে নেমেছিল শাহাবীর। পরিবারের দুঃখ–কষ্ট কমাতে লেখাপড়া ছেড়ে শুরু করে লেগুনায় কাজ, পরে বাসের হেলপারি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি টঙ্গিবাড়ীর বালিগাঁও ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে পার্কিং করা গাংচিল পরিবহনের একটি বাসে রাতে অবস্থান করছিল সে। ঘুমের মাঝে মশার কয়েল থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাসে, বের হতে না পেরে পুড়ে মৃত্যু হয় তার। ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করে।
দুর্ঘটনার পর টঙ্গিবাড়ী থানায় বাস মালিকদের সঙ্গে পরিবারের এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে সমঝোতা হলেও, আট মাস পেরিয়ে গেলেও তার পরিবার হাতে পেয়েছে মাত্র ৫৫ হাজার টাকা। বাকিটা দিতে মালিকরা বারবার সময়ক্ষেপণ করছেন বলে জানায় পরিবারটি।
শাহাবীরের মা মুন্নী বেগম, ছোট বোন সোহানা এবং নানা–নানির সঙ্গে গিয়েই দেখা যায়, দারিদ্র্যের চাপ তাদের জীবনে আরও বেড়েছে। নানার পুরোনো টিনের ঘরে জায়গা না হওয়ায় মা–মেয়েকে রাত কাটাতে হয় চাচাতো ভাইয়ের পরিত্যক্ত ঘরে। নানার সামান্য আয়েই চলছে সোহানার পড়াশোনা ও সংসারের ব্যয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শাহাবীর ছোটবেলা থেকেই সংসারের অভাব দেখে দ্রুত কাজে নেমে পড়ে। মায়ের ও বোনের জন্য ভালো কিছু করতে চেয়েছিল সে। বোনকে কলেজে পড়াবে—এমন স্বপ্নও ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাসে আগুন লেগে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
গ্রামবাসী, আত্মীয়স্বজন সবারই অভিযোগ—মালিকপক্ষ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কথা রাখেনি। বাস মালিকরা বলছেন, পরিবহন মালিক সমিতি ভেঙে যাওয়ায় টাকা দিতে দেরি হচ্ছে। কেউ কেউ আবার দাবি করছেন, নির্ধারিত অংশ নিজেদের পক্ষ থেকে দিয়েও বাকি অংশ সমিতির কাছে আটকে আছে।
অন্যদিকে আগুনের সূত্রপাত ছিল মশার কয়েল থেকে—এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। তবে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কেউ দেয়নি, এমনটাই জানান টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
শাহাবীরের পরিবার এখনো আশায় আছে, প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণের বাকি অর্থটি একদিন হাতে পাবে। সেই টাকাই হবে তাদের ভাঙা সংসার টিকিয়ে রাখার ক্ষুদ্র সম্বল।