সারাদেশের মতো গত মৌসুমে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছিলেন মুন্সীগঞ্জের আলুচাষিরা। উৎপাদন খরচই ওঠেনি, অনেকেই দেনার ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছিলেন। তারপরও নতুন মৌসুমকে ঘিরে আবার স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা। ভোর থেকে সন্ধ্যা—মাঠে চলছে বীজ আনা, জমি প্রস্তুত, বীজ কাটা ও রোপণের ব্যস্ততা।
গতবারের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার জেলায় আলুর লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়েছে কৃষি বিভাগ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, গত বছর ৩৫ হাজার ৭৯৬ হেক্টরের বিপরীতে এবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্য রাখা হয়েছে ১০ লাখ ৯৭ হাজার টন।
কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান জানান, গতবারের লোকসান এবং বিকল্প ফসল চাষে উৎসাহ দেওয়ায় এবার আবাদ কমছে। ইতোমধ্যে সদর, সিরাজদীখান, লৌহজং, টঙ্গিবাড়ী, গজারিয়া ও শ্রীনগরে শীতের শুরুতেই আলু রোপণ শুরু হয়েছে। সর্বাধিক আবাদ হচ্ছে জেলা সদরে।
গত মৌসুমে ভালো দাম পাওয়ার আশায় আবাদ বাড়ালেও বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে দাম পড়ে গিয়ে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। অনেকে হিমাগার থেকে আলু বেরও করেননি। সরকার ২২ টাকা কেজি দরে আলু কেনার ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
তবুও নতুন মৌসুমে কৃষকের মনোবল অটুট। ধামারন গ্রামের জুলেখা বেগম জানান, তারা ৬০ শতাংশ জমিতে আলু রোপণ করছেন, ঘরেই বসে বীজ কাটা নিয়ে ব্যস্ত তিনি ও পাশের নারীরা। সিরাজদীখানের বালুরচর এলাকার আলী মিয়াও জানান, উঁচু জমি হওয়ায় আগাম আলু চাষই তাদের ভরসা।
এছাড়া উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে লক্ষাধিক শ্রমিক এসে যুক্ত হয়েছেন রোপণের কাজে—কেউ দৈনিক মজুরিতে, কেউ চুক্তিভিত্তিক। রংপুরের শ্রমিক আব্বাস মিয়া জানান, তারা ন্যায্য মজুরি পেয়ে সন্তুষ্ট।
লোকসানের দাগ এখনো রয়ে গেলেও নতুন মৌসুমের কর্মযজ্ঞে মুখর মুন্সীগঞ্জের আলুখেত—কৃষকদের আশায় যেন ফের সবুজ আলো।