
মুন্সিগঞ্জ সদরসহ ৬টি উপজেলার সর্বত্র এলাকাজুড়ে ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিকশার যন্ত্রণাদায়ক হর্নের বিকট শব্দের অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে হাট-বাজারসহ রাস্তায় চলাচলরত লোকজন। দিনের পর দিন শব্দ দূষণে ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে। প্রশাসন কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায়
ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষেরা। ২০১৩ সালে যত্রতত্র গাড়ি পাকিং ও হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার মাত্রারিক্ত শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠী।
ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালকরা অকারণেই শুধু শুধু হর্ন বাজিয়ে চলছে অহরহ। এতে রাস্তা ঘাটে চলাচল করা
মানুষের শব্দ দুষনের কারণে মানুষ অসুস্থ হয়ে পরছে। অটোরিকশার হর্ন কম বাজানোর জন্য দাবি জানালেও চালকরা কোন তোয়াক্কা করছেন না।
জানা গেছে, জেলার ৬ টি উপজেলায় কয়েক হাজার ব্যাটারি চালিত অটো মিশুক, নসিমন-করিমন রয়েছে।
জেলার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলাগুলোর হাট-বাজার, উপজেলার রাস্তার মোড়, নিমতলা, ইছাপুরা চৌরাস্তা, মালখানগর চৌরাস্তা, তালতলা বাজার, বালুচর বাজার এই রাস্তাগুলোতে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও মিশুকে বিকট শব্দের হর্ন লাগিয়ে দিব্বি শব্দ দূষণ করে চলছে। এর ফলে রাস্তার পশে থাকা স্কুল, কলেজ, হাসপাতালে বিকট শব্দের কারণে দৈনন্দিন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। চালকরা শুধু শুধু ইচ্ছে করেই বেশি বেশি হর্ন বাজিয়ে চলছে। এতে একদিকে হর্নের শব্দে যাত্রী ও সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। অপরদিকে এলাকায় শব্দ দূষণ বেড়েই চলছে।
জেলার সিরাজদিখান বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল
মামুন বলেন, ব্যাটারি চালিত মিশুকের চালকেরা বিরতিহীন ভাবে হর্ন চেপে ধরে অটোরিকশা চালাচ্ছে। যাত্রী ও পথচারিদের অনেক অনুরোধ করেও কোন লাভ হচ্ছে না। অটোরিকশা যন্ত্রণায় আর পারি না কারণ ওরা এত হর্ন বাজায়। কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার মত।
অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন জাহাঙ্গীর মিয়া তিনি জানান, অটোরিকশার গতি বেশি থাকে সেই কারণেই এত বিকট শব্দে হর্ন বাজাতে হয়।
সবত্র অটোরিকশা চালক ফজলু মিয়া বলেন, লোহার তৈরী ঘন্টার শব্দে মানুষ শুনে না। এজন্যই হর্ন বাজাইতে হয়। বেশি শব্দে ক্ষতি বেশি হলে আমরা কি করবো। পুলিশ-প্রশাসনতো প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকার নিয়ে চুপ করে থাকে। আর আমরাও রাস্তায় যেমন খুশি তেমন করে ব্যাটারি চালিত মিশুক, ণসিমন, করিমন চালাচ্ছি।
জেলার পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, অটোরিকশা, মিশুক, ণসিমন-করিমনগুলোর বিধিমালা গুলোর প্রয়োগ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীদের নির্দেশ দিলেও চালকরা তার কোন তোয়াক্কা করছেনা। তবে প্রতিনিয়ত আমাদের পুলিশ সদস্যরা চেষ্টা করে যাচ্ছে যেভাবেই হোক শব্দ দূষণসহ অবৈধ ব্যাটরি চালিত এসব যানবাহনগুলোকে একটি স্বাভাবিক নিয়মের মধ্যে যেন নিয়ে আসা হয়। রাস্তায় চলার জন্য পুলিশ-প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের ঐক্যবদ্ধ হলেই অটোরিকশা, মিশুক, ণসিমন-করিমনগুলোকে আইনের আওতায় এনে একটি সুশৃঙ্খল সমাজ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।
পরিপত্রে বলা হয়, সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ এর বিধি-৮১ অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপক বা উদ্ধারকাজের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত মোটরযান অথবা রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে ব্যবহৃত মোটরযান ব্যতীত অন্য যে কোনো মোটরযানে পরপর বিভিন্ন সুর প্রদানকারী বহুমুখী হর্ন অথবা তীব্র, কর্কশ, আকস্মিক, বিকট বা ভীতিকর শব্দের হর্ন বা যন্ত্র সংযোজন বা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের অননুমোদিত হর্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি করা ছাড়াও চালকগণকে বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে মোটরযান চালাতে উৎসাহিত করে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার আশংকা বৃদ্ধি পায়। লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে কিছু কিছু মোটরযানে হুটার, হাইড্রোলিক হর্ন ও অন্যান্য অননুমোদিত হর্ন সংযোজন করে ব্যবহার করার ফলে গণ উদ্বেগের সৃষ্টি হচ্ছে, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে আরও বলা হয়, এ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপক বা উদ্ধারকাজের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত মোটরযান অথবা রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে ব্যবহৃত মোটরযান ছাড়া অন্য যে কোনো মোটরযানে এ ধরনের হর্ন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।