মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় কবুতর চুরির সন্দেহে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে শিশুটির বুকের ওপর উঠে পা দিয়ে চাপ দেওয়ার হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই শিশু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় ভিডিওতে থাকা প্রধান অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সজিব দে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটক ব্যক্তি বাবু (৪০), সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের দক্ষিণ দেওসার নয়াবাড়ি এলাকার মৃত মঞ্জু মিয়ার ছেলে।
ভুক্তভোগী শিশু মো. নিরব (১৩) একই এলাকার বাসিন্দা নাজিম শেখের ছেলে এবং সুখবাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ছেলে নিরবকে মারধরের ঘটনায় গত ১৫ ডিসেম্বর নাজিম শেখ সদর থানায় দুইজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রোববার (২২ ডিসেম্বর) ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই রাতেই অভিযুক্ত বাবুকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শিশু নিরব ও অভিযুক্তরা উভয়েই কবুতর পালন করতেন। গত ১৩ ডিসেম্বর রাত আটটার দিকে নিজের হারানো কবুতর খুঁজতে নিরব অভিযুক্ত বাবুর বাড়িতে গেলে বাবু (৪০) ও আরফাত (২৫) পূর্বের বিরোধের জেরে তাকে গালিগালাজ করেন। এরপর কিল-ঘুষি, লাথি ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির বুকের ওপর উঠে পা দিয়ে চাপ দেওয়া হয় এবং মাথা দেয়ালে আছড়ে মারা হয়।
শিশুটি চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পায়। পরে ঘটনাস্থলে এসে পিতা নাজিম শেখ দেখেন, তার ছেলেকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। তিনি প্রতিবাদ করলে তাকেও হুমকি দেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৪ ডিসেম্বর সকালে অভিযুক্তরা আবার নাজিম শেখের বাড়িতে গিয়ে মামলা করলে তার ছেলেকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, ভিডিওতে থাকা অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।