রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক মতভেদ রেখেই আজ শুক্রবার স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে তৈরি এই সনদে মোট ৮৪টি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দীর্ঘ আলোচনার পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন চূড়ান্ত করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, কমিশনের সদস্য এবং প্রায় ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি আজ এই সনদে সই করবেন। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বামধারার কয়েকটি দল সনদে সই না করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এতে সই করার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
অনুষ্ঠানটি বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংগীত ও শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালনের পর শুরু হবে মূল পর্ব। স্বাগত বক্তব্য দেবেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, পরে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সনদে স্বাক্ষর করবেন। অনুষ্ঠানে প্রায় তিন হাজার অতিথি উপস্থিত থাকবেন, যার মধ্যে রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট নাগরিক রয়েছেন।
জুলাই সনদের ৮৪ প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, আর বাকি ৩৭টি বাস্তবায়ন করা যাবে আইন, বিধি বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করা, রাষ্ট্রপতির ভূমিকা বাড়ানো, একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে বাছাই কমিটি গঠন, সংসদে উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি।
সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়েই মূলত রাজনৈতিক মতভেদ রয়েছে। জামায়াত ও এনসিপি চায়, একটি জুলাই বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার অনুমোদন দিতে হবে। অন্যদিকে বিএনপি মনে করে, নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে।
ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সব দলই শেষ পর্যন্ত সনদে অংশগ্রহণ করবে। কমিশন আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেবে।
রাষ্ট্রীয় সংস্কারের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল গত বছরের অক্টোবর মাসে ছয়টি পৃথক সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে। ফেব্রুয়ারিতে তারা প্রস্তাব জমা দিলে, ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করে। দীর্ঘ এক বছরের আলোচনার ফলেই আজ বাস্তবে রূপ নিচ্ছে এই ঐতিহাসিক জুলাই জাতীয় সনদ।