দেশের অন্যতম আলু উৎপাদন অঞ্চল মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে গত মৌসুমে দাম বৃদ্ধির আশায় বিপুল পরিমাণ আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাজারে দাম না বাড়ায় এখন সেই আলুই পরিণত হয়েছে বড় বোঝায়। ৩০ অক্টোবরের মধ্যে হিমাগারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তবুও অনেকেই আলু তুলতে আগ্রহী নন—কারণ বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) গড়ে ৭৫০ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, সিরাজদীখানের ১০টি হিমাগারে এখনো প্রায় ৭ লাখ ৬৩ হাজার বস্তা আলু মজুত রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩৮ হাজার টন। প্রতি বস্তায় গড়ে ৭৫০ টাকা ক্ষতি ধরা হলে মোট লোকসানের অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৬০ কোটি টাকা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আশরাফ উদ্দিন ঝন্টু জানান, তিনি ছয় হাজার বস্তা আলু রেখেছিলেন; এর মধ্যে পাঁচ হাজার বস্তা এখনও বিক্রি হয়নি। প্রতিবস্তা ১,১০০ টাকা খরচ পড়ে, অথচ বিক্রি করলে ৯০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। ফলে তিনি প্রায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে।
ইছাপুরার ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান হীরা বলেন, ২,৭০০ বস্তা আলু সংরক্ষণ করে তিনি ১৩ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে কৃষক জালাল উদ্দিন জানান, এখন বাজারে আলুর দাম কেজিপ্রতি ৮–৯ টাকা, যেখানে উৎপাদন খরচই এর চেয়ে বেশি।
হিমাগার মালিকরা বলছেন, সরকার কেজিপ্রতি ২২ টাকা দাম নির্ধারণ করলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় দাম ক্রমেই কমছে, এতে কৃষক ও হিমাগার উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, এ বছর আলুর বাম্পার ফলনের কারণে দাম কমেছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নে প্রচারণা চলছে, তবে বাজারে চাহিদা না থাকায় দাম বাড়ছে না।