• শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন
Headline
গজারিয়াতে বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা: ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, একজন গ্রেপ্তার লৌহজংয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, গ্রেপ্তার ১ মুন্সীগঞ্জে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গজারিয়ায় পরিযায়ী পাখি শিকার: অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ ৬ জনকে জরিমানা  মুন্সীগঞ্জে ১৫ জুলাইযোদ্ধার গেজেট বাতিল, প্রজ্ঞাপন জারি সরকারের মুন্সিগঞ্জে অটিজম শিশুদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ জাতীয় সংসদকে যুক্তি ও সমাধানের কেন্দ্র করতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রমজানে সৌদি উপহারের খেজুর: মুন্সিগঞ্জের ১৮০ কার্টুন কোথায়—সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসে মুন্সীগঞ্জে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়া দায়িত্ব ছাড়ার পর নতুন করে অপপ্রচার—দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার আসিফ নজরুলের শ্রীনগরে উদ্ধারকৃত অর্ধগলিত লাশের পরিচয় মিলেছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় নিহত-১আহত-১ শ্রীনগরে সিসি ক্যামেরায় দেখা গেল সন্দেহভাজন ডাকাতদের সিরাজদীখানে সূর্যমুখী চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা সিরাজদীখানে ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার নিমতলা বাজার সংলগ্ন খালে ময়লা ফেলা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান শ্রীনগরে সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপি শেখ মো. আব্দুল্লাহ মুন্সীগঞ্জে অটোরিকশা চালক হত্যা: ১৯ দিন পর মরদেহ উদ্ধার, পরিকল্পনাকারীসহ আটক ৪ মুন্সিগঞ্জে সুন্দরবন এক্সপ্রেসের ধাক্কায় কৃষি কর্মকর্তা নিহত মুন্সীগঞ্জ শহর বাজারে ভোক্তা অধিকার দপ্তরের অভিযান, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

মাত্র ২৭ দিনে হিমালয়ের ৩টি পর্বত স্পর্শ করলেন বাংলাদেশি তৌকির

Reporter Name / ১৬৫ Time View
Update : বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৪

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২৭ দিনের অভিযানে গিয়ে নেপালের ৩টি ছয় হাজার মিটার পর্বত চূড়া স্পর্শ করছেন পাবনার চাটমোহরের সন্তান আহসানুজ্জামান তৌকির। কোনো শেরপা সাপোর্ট ছাড়াই সেখানে আরোহণ করেছেন তিনি।

তৌকিরের অভিযানের নাম ছিলো ‘TREE PEAK IN A ROW’। এই অভিযানের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলো রোপ ফোর আউটডোর অ্যাডুকেশন।

চাটমোহর পৌরসদরে বেড়ে ওঠা আহসানুজ্জামান তৌকির পেশায় একজন প্রকৌশলী হলেও পর্বতারোহণে তার রয়েছে বেশ কিছু সফলতা। গত তিন বছরে হিমালয়ের পাঁচটি ছয় হাজার মিটারের চূড়ায় আরোহণ করেছেন তৌকির। শুধু মাতৃভূমিকে নয়, সেখানে নিয়ে গেছেন নিজ জন্মস্থানকেও।

চাটমোহর পৌর সদরের বালুচর মহল্লার বাসিন্দা আকরাম হোসেন সাবু ও সামিয়া পারভীন দম্পতির ছেলে আহসানুজ্জামান তৌকির জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে গত ৪ অক্টোবর নেপালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তিনি। কাঠমান্ডুতে ২ দিনের অভিযান প্রস্তুতি শেষে চলে যান এভারেস্ট রিজিওনের খুম্বু ভ্যালিতে। সেখানে টানা পাঁচ দিন ট্রেকিং শেষে ১১ অক্টোবর পৌঁছান ডিংবোচে গ্রামে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে তার আইল্যান্ড পিক (৬১৬৫ মিটার) অভিযানের কথা থাকলেও টিম লিডার মহিউদ্দিন মাহির তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে ১২ অক্টোবর লবুচে পিক অভিযানে যান তৌকির। সিদ্ধান্ত নেন কোনো শেরপা সাপোর্ট ছাড়াই একা ক্লাইম্ব করবেন ৬১১৯ মিটারের লবুচে পিক।

১২ অক্টোবর সকালে প্রয়োজনীয় ক্লাইম্বিং ইকুইপমেন্ট নিতে চলে যান ডিংবোচে থেকে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরের চোখুং গ্রামে। সেখান থেকে শুরু করেন ১৩ কিলোমিটার দূরের লবুচে হাই ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে যাত্রা। বিকালে লবুচে হাই ক্যাম্প পৌঁছে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে স্থানীয় সময় রাত ২টা ২০ মিনিটে সামিট পুশ করেন এবং সকাল ৭টা ৩৬ মিনিটে পা রাখেন লবুচে ইস্ট পর্বত চূড়ায়, তুলে ধরনের বাংলাদেশের পতাকা। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কোন শেরপা সাপোর্ট ছাড়াই তিনি এই পর্বত অভিযান শেষ করেন।

তৌকির আরও জানান, তিনি দলের সঙ্গে চলে যান এভারেস্ট বেস ক্যাম্প, সেখান থেকে আবার ফিরে আসেন আইল্যান্ড পিক ভিলেজ ক্যাম্প ক্ষ্যাত চোখুং এ। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করেন আইল্যান্ড পিক বেস ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে। দুপুরে বেস ক্যাম্পে পৌঁছে দুপুরের খাবার খেয়ে টীমমেটদের প্রশিক্ষণ দেন অ্যাসেন্ডিং এবং ডিসেন্ডিং কৌশলের। এরপর রাত ১টা ০৪ মিনিটে সামিট পুশ করেন। প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়া, একটু পর পর তুষারপাত এবং ফিক্সড রোপে প্রচুর ট্রাফিক পেরিয়ে ১৮ অক্টোবর সকাল ৯টা ৫৪ মিনিটে আইল্যান্ড পিক (৬১৬৫ মিটার) চূড়ায় লাল-সবুজের পতাকা উড়ান।

সফল সামিট শেষে তৌকির ফিরে আসেন চোখুং এ। এরপর নেমে আসেন শেরপা রাজধানী নামচে বাজার হয়ে লুকলা গ্রামে। সেখান থেকে শুরু হয় তার তৃতীয় অভিযানের প্রস্তুতি। খুম্বু ভ্যালী ছেড়ে এবার তিনি যাত্রা শুরু করেন হিংকু ভ্যালীর দিকে। টানা ৭ দিন মাকালু-বারুনসে ফরেস্ট ট্রেকিং শেষে ২৭ অক্টোবর হিংকু নদীর উৎপত্তি স্থল পেরিয়ে শেষ গ্রাম খারেতে পৌঁছান তৌকির। সব ইকুইপমেন্ট চেক এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ২৯ অক্টোবর মেরা পিক হাই ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে বিকালে হাই ক্যাম্পে পৌঁছান। কিছুটা বিশ্রাম শেষে রাত ২টা ০৮ মিনিটে সামিট পুশ করেন এবং ৩০ অক্টোবর সকাল ৭টা ৩৬ মিনিটে তিনিসহ তার পুরো টিম মেরা পিক (৬৪৬১ মিটার) সামিট করেন এবং মেলে ধরেন লাল-সবুজের পতাকা।

অনুভূতি প্রকাশ করে আহসানুজ্জামান তৌকির বলেন, হিমালয়ের সবগুলো পর্বত অভিযানই কষ্টসাধ্যের এবং ব্যয়বহুল। প্রচন্ড ঠাণ্ডা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ক্লাইম্বি শেষে যখন নিজ দেশের লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছি, তখন সব কষ্ট নিমিষেই আনন্দে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। ধন্যবাদ দিতে চাই রোপ ফোর আউটডোর এডুকেশনকে। যার পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই অভিযান সফল হতো না। বিশেষ করে রোপ ফোরের দুই প্রতিষ্ঠাতা মারুফা হক এবং মহিউদ্দিন মাহি যাদের নিরলস প্রচেষ্টায় সব কিছু আরও সহজ হয়েছে। এই পর্বতারোহীর এবার সামনের পরিকল্পনা এভারেস্ট নিয়ে। এর জন্য প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা। অভিযান শেষে আগামী ১৬ নভেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

তৌকির এর আগে খুম্বু রিজিওনের ৫০৭৬ মিটার উচ্চতার নাগা অর্জুন এবং ৬১১৯ মিটার উচ্চতার লবুচে পিক পর্বতের চুড়ায় আরোহণ করে বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা উড়িয়েছেন।

আহসানুজ্জামান তৌকির দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট। তিনি চাটমোহর সরকারি রাজা চন্দ্রনাথ ও বাবু শম্ভুনাথ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ডিপ্লোমা এবং অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্রিপল ই-তে বিএসসি সম্পন্ন করেছেন।

তৌকিরের বাবা আকরাম হোসেন সাবু ছেলের এই সফলতায় খুশি। তিনি দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ওর নেশা ছিল পর্বতের যাবার। আল্লাহ তাকে সে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা